রাজনৈতিক কর্মসূচিতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অংশগ্রহণ করতে বারণ, চাকরি বিধিমালা লঙ্ঘন করলে নেওয়া হবে ব্যবস্থা
কর্মকর্তা-কর্মচারীদের রাজনীতি বিমুখ রাখতে নড়েচড়ে বসেছে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন (বিসিসি) প্রশাসন। রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ, ব্যানার, ফেস্টুন টাঙানো এমনকি বিশেষ কোনো নেতার সাথে ক্যামেরাবন্দি ছবি সমাজপাতায় প্রকাশ-প্রচারে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বারণ করা হয়েছে। এবং এনিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সতর্ক করে বিসিসি প্রশাসন অফিস আদেশও জারি করেছে। বিসিসি প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে রাজনীতিবিদেরা স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখলেও অভিজ্ঞ মহলের পাশাপাশি সমাজকর্মীরা বিষয়টিকে ইতিবাচক এবং সমপোযোগী বলছেন।
পর্যবেক্ষক মহল বলছেন, স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের গত ১৬ বছরের শাসনামলে সরকারি দপ্তরসমূহে বিশৃঙ্খলা পরিবেশ লক্ষ্যণীয় ছিল। চাকরি বিধিমালা লঙ্ঘন করে অধিকাংশ দপ্তরের ‘টপ টু বটম’ কর্মকর্তা-কর্মচারী দলবাজ হয়ে পড়েছিলেন। গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা সরকার পতনের পরে প্রত্যাশা ছিল অন্তত সরকারি দপ্তরসমূহ দলবাজমুক্ত হবে। কিন্তু মোটেও তা হয়নি, বরং আগের ন্যায় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করছেন। এমনকি দলীয় পদ-পদবি বহন করাসহ রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করতে গিয়ে কর্মে ফাঁকি দিয়ে সেবাগ্রহিতাদের বিড়াম্বনায় ফেলছেন। বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে এই প্রবনতা বেশিমাত্রায় দেখা যাচ্ছে, যা নিয়ে জনসাধারণের মধ্যে ক্ষোভ লক্ষ্য করা যায়।
বরিশাল সিটি কর্পোরেশন সূত্র জানিয়েছে, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা রাজনৈতিক নেতাদের লেজুড়বৃত্তি করে শহরের বিভিন্ন স্থানে পোস্টার, ব্যানার সাটানোসহ দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে শহরবাসীর মধ্যে সমালোচনা হয়। এবং কেউ কেউ রাজনৈতিক নেতাদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করে ছবি তুলে তা ব্যক্তিগত ফেসবুকেও পোস্ট করেন, যা চাকরি বিধিমালা লঙ্ঘনের সামিল। এই বিষয়টি নজরে আসার পরে প্রশাসক রায়হান কাওসার ক্ষোভপ্রকাশ করেছেন।
সূত্র নিশ্চিত করেছে, গত ৯ নভেম্বর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল বারী স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে কর্মকর্তা-কর্মচারীকে রাজনৈতিক সভা-সমাবেশে অংশগ্রহণে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। আদেশে উল্লেখ করা হয়, ‘সিটি করপোরেশনের কিছু কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী চাকরি বিধিমালা লঙ্ঘন করে বিভিন্ন ধরনের রাজনৈতিক সভা, সমাবেশে অংশগ্রহণ করছেন, যা চাকরি শৃঙ্খলা পরিপন্থী অপরাধ। এ অবস্থায় সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে রাজনৈতিক সভা, সমাবেশ, মিছিলে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হলো।
জনস্বার্থে বিসিসি প্রশাসনের এই নড়েচড়ে বসায় বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতৃত্ব বিষয়টির বিরোধীতা করছে। প্রাসঙ্গিক এই বিষয়ে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, অফিস শেষে বিসিসির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কোনো কর্মসূচিতে অংশ নিলে বিসিসি বাধা দিতে পারে না। এটা যে কারও ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, এভাবে রাজনীতিতে বাধা দেওয়া ঠিক না।
বাসদের জেলা সমন্বয়ক ডা. মনীষা চক্রবর্তীও বিষয়টি নিয়ে বিএনপি নেতার মত অনুরূপ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘বরিশাল সিটি করপোরেশন একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। এবং রাজনীতি করার অধিকার সবারই আছে। অফিস সময়ের বাইরে রাজনীতি করার স্বাধীনতা বাধাগ্রস্ত করা ঠিক হবে না।
তবে বরিশাল সিটি কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি নুর খান বলছেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করলে সকলে আইনে মানতে বাধ্য। কিন্তু অনেকে কর্মস্থল ফাঁকি দিয়ে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়াসহ দলীয় নেতাদের সাথে দেখা-সাক্ষাৎ করে সেই ছবি ফেসবুকে প্রকাশ করে প্রভাব বিস্তার করছেন। বিষয়টি নিয়ে নগরবাসীর মধ্যে নেতিবাচক আলোচনা হয় এবং তা বিসিসি প্রশাসনের কানেও এসেছে। এছাড়া কর্মকর্তা-কর্মচারীরা রাজনৈতিক নেতাদের ছবিসংবলিত ব্যানার পোস্টার সাটানোর বিষয়টি খোদ প্রশাসক রায়হান কাওসারের নজরে আসলে তিনি বিব্রতবোধ করেন।
বিসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল বারী রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, চাকরি আইনে অনেক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে বিসিসি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের রাজনীতিতে জড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। কিন্তু আইন লঙ্ঘন করে অনেকে রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তির ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছেন, বিষয়টি নজরে আসার পরে গত ৯ নভেম্বর আদেশ জারি করে এগুলো করতে বারণ করা হয়েছে। পরবর্তীতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে কেউ এমন চাকরিপরিপন্থী কর্মকান্ডে জড়িত থাকলে ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।
প্রশাসনের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, বরিশাল সিটির প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনার রায়হান কাওসার ইতিমধ্যে সরকারি প্রতিটি দপ্তরের প্রধান কর্মকর্তাকে তাদের অধীনস্থ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরিবিধি লঙ্ঘন করে রাজনীতিতে জড়াতে বারণ করেছেন। এরপরেও যদি কেউ এই ধরনের কর্মকান্ডে জড়িয়ে সরকারি প্রতিষ্ঠানকে সমালোচিত করে তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থাগ্রহণ করবেন তিনি। সেক্ষেত্রে দলবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরি হারানোর ঝুঁকিও থাকছে।
বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় সুশীলমহল। এনিয়ে শহরের কাউনিয়া এলাকার বাসিন্দা সমাজকর্মী কাজী এনায়েত হোসেন শিবলুর অভিব্যক্তি হচ্ছে, সরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি গ্রুপ আওয়ামী লীগের শাসনামলে রাজনীতিতে জড়িয়ে খেসারত হিসেবে অনেকে চাকরি হারিয়েছেন, আবার অনেকের মাথায় শাস্তির খড়গ ঝুলছে। কিন্তু এরপরেও তারা দলবাজি ছাড়তে চাইছেন না, যা জনসাধারণের জন্য অস্বস্তিকর। তবে এবার বরিশাল সিটির প্রশাসক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের রাজনীতি থেকে বিরত রাখতে যে উদ্যোগ নিয়েছেন তা আসলেই প্রশংসার দাবি রাখে। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত কতটুকু বাস্তবায়ন হয়, সেটা এখন দেখতে অপেক্ষা করতে হচ্ছে।’

২৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১৫:৫৭
বরিশালের হিজলায় মেঘনা নদীতে আক্তার হাওলাদার নামে চল্লিশোর্ধ্ব এক জেলেকে গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ভোরে উপজেলার মেমানিয়া ইউনিয়নের চরমেমানিয়া এলাকায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়। পরে বেলা ১টার দিকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত আক্তার হাওলাদার চরমেমানিয়া এলাকার সুলতান হাওলাদারের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আক্তার হাওলাদার অন্য জেলেদের সঙ্গে মেঘনা নদীতে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন। এ সময় অন্য একটি ট্রলার থেকে তাদের ট্রলার লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। এতে আক্তার গুলিবিদ্ধ হন। পরে সঙ্গে থাকা জেলেরা তাকে জীবিত অবস্থায় নদীর তীরে নিয়ে আসেন এবং স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে খবর দেন। মেমানিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আফসার উদ্দিন ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশকে জানান। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হিজলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
হিজলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোলায়মান জানান, অন্য একটি ট্রলার থেকে গুলি ছোড়ার ঘটনায় আকতার গুলিবিদ্ধ হন বলে তার সঙ্গে থাকা জেলেরা জানিয়েছেন। তবে কারা এবং কী কারণে গুলি ছুড়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, মৎস্য বিভাগ, নৌ পুলিশ, কোস্টগার্ডসহ সংশ্লিষ্ট বাহিনীর সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। ঘটনার সময় নদীতে কোনো বাহিনীর অভিযান চলছিল না। কীভাবে ওই জেলে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
মেমানিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আফসার উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, কয়েকজন জেলে তাকে মেঘনা নদীতে একজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকার খবর দেন। পরে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশকে জানান। জেলেদের কাছ থেকে তিনি জানতে পেরেছেন, একটি ট্রলার থেকে তাদের ট্রলার লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়েছিল। তবে কারা গুলি করেছে, সে বিষয়ে তারা নিশ্চিত করে কিছু জানাতে পারেননি।’
বরিশালের হিজলায় মেঘনা নদীতে আক্তার হাওলাদার নামে চল্লিশোর্ধ্ব এক জেলেকে গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ভোরে উপজেলার মেমানিয়া ইউনিয়নের চরমেমানিয়া এলাকায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়। পরে বেলা ১টার দিকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত আক্তার হাওলাদার চরমেমানিয়া এলাকার সুলতান হাওলাদারের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আক্তার হাওলাদার অন্য জেলেদের সঙ্গে মেঘনা নদীতে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন। এ সময় অন্য একটি ট্রলার থেকে তাদের ট্রলার লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। এতে আক্তার গুলিবিদ্ধ হন। পরে সঙ্গে থাকা জেলেরা তাকে জীবিত অবস্থায় নদীর তীরে নিয়ে আসেন এবং স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে খবর দেন। মেমানিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আফসার উদ্দিন ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশকে জানান। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হিজলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
হিজলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোলায়মান জানান, অন্য একটি ট্রলার থেকে গুলি ছোড়ার ঘটনায় আকতার গুলিবিদ্ধ হন বলে তার সঙ্গে থাকা জেলেরা জানিয়েছেন। তবে কারা এবং কী কারণে গুলি ছুড়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, মৎস্য বিভাগ, নৌ পুলিশ, কোস্টগার্ডসহ সংশ্লিষ্ট বাহিনীর সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। ঘটনার সময় নদীতে কোনো বাহিনীর অভিযান চলছিল না। কীভাবে ওই জেলে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
মেমানিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আফসার উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, কয়েকজন জেলে তাকে মেঘনা নদীতে একজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকার খবর দেন। পরে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশকে জানান। জেলেদের কাছ থেকে তিনি জানতে পেরেছেন, একটি ট্রলার থেকে তাদের ট্রলার লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়েছিল। তবে কারা গুলি করেছে, সে বিষয়ে তারা নিশ্চিত করে কিছু জানাতে পারেননি।’

২৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩:৪৬
বরিশাল নগরীর সদর রোডে দ্রুতগতির মোটরসাইকেলের ধাক্কায় সজল কুমার চক্রবর্তী নামে এক আইনজীবী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মোটরসাইকেলের দুই আরোহী আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে জগন্নাথ মন্দিরের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও নিহতের সহকর্মীদের সূত্রে জানা গেছে, সকালে মন্দির থেকে বের হওয়ার সময় দ্রুতগতির একটি মোটরসাইকেল সজলকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি ও মোটরসাইকেলের দুই আরোহী গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ তাঁদের উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল ৮টা ৫ মিনিটে সজল কুমার চক্রবর্তীর মৃত্যু হয়।
বরিশাল কোতয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনার পর আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি।’
বরিশাল নগরীর সদর রোডে দ্রুতগতির মোটরসাইকেলের ধাক্কায় সজল কুমার চক্রবর্তী নামে এক আইনজীবী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মোটরসাইকেলের দুই আরোহী আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে জগন্নাথ মন্দিরের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও নিহতের সহকর্মীদের সূত্রে জানা গেছে, সকালে মন্দির থেকে বের হওয়ার সময় দ্রুতগতির একটি মোটরসাইকেল সজলকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি ও মোটরসাইকেলের দুই আরোহী গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ তাঁদের উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল ৮টা ৫ মিনিটে সজল কুমার চক্রবর্তীর মৃত্যু হয়।
বরিশাল কোতয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনার পর আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি।’

২৯ অক্টোবর, ২০২৬ ০৯:৩৬
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় ২০১৫ সালে কথিত ‘ক্রসফায়ারে’ ছাত্রদল ও জাসাসের দুই নেতাকে হত্যার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহসহ চার আসামির পক্ষে রাষ্ট্রপক্ষের তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরা আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মুক্তার হোসেনের অবশিষ্ট জেরা হবে। এর আগে গত ১৮ অক্টোবর ট্রাইব্যুনাল পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য আজকের দিন ধার্য করেন।
এ মামলার আসামিরা হলেন সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ, বরিশালের তৎকালীন পুলিশ সুপার (এসপি) এ কে এম এহসানউল্লাহ এবং উজিরপুর থানার সাবেক দুই সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. মাহাবুল ইসলাম ও মো. জসিম উদ্দিন।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, হাসানাত আবদুল্লাহ ও এ কে এম এহসানউল্লাহ পলাতক রয়েছেন। অপর দুই আসামি মাহাবুল ইসলাম ও জসিম উদ্দিন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে বরিশালের আগৈলঝাড়ায় কথিত ক্রসফায়ারে নিহত হন উপজেলা ছাত্রদলের তৎকালীন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক টিপু হাওলাদার এবং জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) সাংগঠনিক সম্পাদক কবির মোল্লা।
আনুষ্ঠানিক অভিযোগে বলা হয়েছে, গৌরনদী-গোপালগঞ্জ মহাসড়কের আগৈলঝাড়া বাইপাস সড়কের বড় সেতুর পশ্চিম পাশে তাঁদের গুলি করে হত্যা করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, রাজনৈতিক বিরোধের জেরে তাঁদের হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল এবং তৎকালীন পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশনায় অধস্তন পুলিশ সদস্যরা এ হত্যাকাণ্ডে অংশ নেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত আসামিদের অপরাধী হিসেবে গণ্য করা যায় না।
২০২৬ সালের ২০ মে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ চার আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। পরে রাষ্ট্রপক্ষের সূচনা বক্তব্য, সাক্ষ্যগ্রহণ এবং আসামিপক্ষের জেরার মধ্য দিয়ে মামলার বিচারিক কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।
রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীদের জবানবন্দি ও জেরা মামলার অভিযোগের পক্ষে উপস্থাপিত তথ্য-প্রমাণ যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরার মাধ্যমে আসামিপক্ষ তদন্তের বিভিন্ন দিক, সংগৃহীত তথ্য-প্রমাণ এবং সাক্ষ্যসংক্রান্ত বিষয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ পাবে।
আজকের কার্যক্রমে তদন্ত কর্মকর্তার অবশিষ্ট জেরা সম্পন্ন হলে ট্রাইব্যুনালের পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী মামলার বিচারিক কার্যক্রম এগোবে। তবে জেরা শেষে কী সিদ্ধান্ত বা আদেশ দেওয়া হয়েছে, তা আদালতের কার্যক্রমের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় ২০১৫ সালে কথিত ‘ক্রসফায়ারে’ ছাত্রদল ও জাসাসের দুই নেতাকে হত্যার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহসহ চার আসামির পক্ষে রাষ্ট্রপক্ষের তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরা আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মুক্তার হোসেনের অবশিষ্ট জেরা হবে। এর আগে গত ১৮ অক্টোবর ট্রাইব্যুনাল পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য আজকের দিন ধার্য করেন।
এ মামলার আসামিরা হলেন সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ, বরিশালের তৎকালীন পুলিশ সুপার (এসপি) এ কে এম এহসানউল্লাহ এবং উজিরপুর থানার সাবেক দুই সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. মাহাবুল ইসলাম ও মো. জসিম উদ্দিন।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, হাসানাত আবদুল্লাহ ও এ কে এম এহসানউল্লাহ পলাতক রয়েছেন। অপর দুই আসামি মাহাবুল ইসলাম ও জসিম উদ্দিন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে বরিশালের আগৈলঝাড়ায় কথিত ক্রসফায়ারে নিহত হন উপজেলা ছাত্রদলের তৎকালীন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক টিপু হাওলাদার এবং জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) সাংগঠনিক সম্পাদক কবির মোল্লা।
আনুষ্ঠানিক অভিযোগে বলা হয়েছে, গৌরনদী-গোপালগঞ্জ মহাসড়কের আগৈলঝাড়া বাইপাস সড়কের বড় সেতুর পশ্চিম পাশে তাঁদের গুলি করে হত্যা করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, রাজনৈতিক বিরোধের জেরে তাঁদের হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল এবং তৎকালীন পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশনায় অধস্তন পুলিশ সদস্যরা এ হত্যাকাণ্ডে অংশ নেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত আসামিদের অপরাধী হিসেবে গণ্য করা যায় না।
২০২৬ সালের ২০ মে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ চার আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। পরে রাষ্ট্রপক্ষের সূচনা বক্তব্য, সাক্ষ্যগ্রহণ এবং আসামিপক্ষের জেরার মধ্য দিয়ে মামলার বিচারিক কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।
রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীদের জবানবন্দি ও জেরা মামলার অভিযোগের পক্ষে উপস্থাপিত তথ্য-প্রমাণ যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরার মাধ্যমে আসামিপক্ষ তদন্তের বিভিন্ন দিক, সংগৃহীত তথ্য-প্রমাণ এবং সাক্ষ্যসংক্রান্ত বিষয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ পাবে।
আজকের কার্যক্রমে তদন্ত কর্মকর্তার অবশিষ্ট জেরা সম্পন্ন হলে ট্রাইব্যুনালের পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী মামলার বিচারিক কার্যক্রম এগোবে। তবে জেরা শেষে কী সিদ্ধান্ত বা আদেশ দেওয়া হয়েছে, তা আদালতের কার্যক্রমের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।

১১ নভেম্বর, ২০২৫ ১৮:০৯
রাজনৈতিক কর্মসূচিতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অংশগ্রহণ করতে বারণ, চাকরি বিধিমালা লঙ্ঘন করলে নেওয়া হবে ব্যবস্থা
কর্মকর্তা-কর্মচারীদের রাজনীতি বিমুখ রাখতে নড়েচড়ে বসেছে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন (বিসিসি) প্রশাসন। রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ, ব্যানার, ফেস্টুন টাঙানো এমনকি বিশেষ কোনো নেতার সাথে ক্যামেরাবন্দি ছবি সমাজপাতায় প্রকাশ-প্রচারে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বারণ করা হয়েছে। এবং এনিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সতর্ক করে বিসিসি প্রশাসন অফিস আদেশও জারি করেছে। বিসিসি প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে রাজনীতিবিদেরা স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখলেও অভিজ্ঞ মহলের পাশাপাশি সমাজকর্মীরা বিষয়টিকে ইতিবাচক এবং সমপোযোগী বলছেন।
পর্যবেক্ষক মহল বলছেন, স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের গত ১৬ বছরের শাসনামলে সরকারি দপ্তরসমূহে বিশৃঙ্খলা পরিবেশ লক্ষ্যণীয় ছিল। চাকরি বিধিমালা লঙ্ঘন করে অধিকাংশ দপ্তরের ‘টপ টু বটম’ কর্মকর্তা-কর্মচারী দলবাজ হয়ে পড়েছিলেন। গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা সরকার পতনের পরে প্রত্যাশা ছিল অন্তত সরকারি দপ্তরসমূহ দলবাজমুক্ত হবে। কিন্তু মোটেও তা হয়নি, বরং আগের ন্যায় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করছেন। এমনকি দলীয় পদ-পদবি বহন করাসহ রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করতে গিয়ে কর্মে ফাঁকি দিয়ে সেবাগ্রহিতাদের বিড়াম্বনায় ফেলছেন। বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে এই প্রবনতা বেশিমাত্রায় দেখা যাচ্ছে, যা নিয়ে জনসাধারণের মধ্যে ক্ষোভ লক্ষ্য করা যায়।
বরিশাল সিটি কর্পোরেশন সূত্র জানিয়েছে, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা রাজনৈতিক নেতাদের লেজুড়বৃত্তি করে শহরের বিভিন্ন স্থানে পোস্টার, ব্যানার সাটানোসহ দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে শহরবাসীর মধ্যে সমালোচনা হয়। এবং কেউ কেউ রাজনৈতিক নেতাদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করে ছবি তুলে তা ব্যক্তিগত ফেসবুকেও পোস্ট করেন, যা চাকরি বিধিমালা লঙ্ঘনের সামিল। এই বিষয়টি নজরে আসার পরে প্রশাসক রায়হান কাওসার ক্ষোভপ্রকাশ করেছেন।
সূত্র নিশ্চিত করেছে, গত ৯ নভেম্বর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল বারী স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে কর্মকর্তা-কর্মচারীকে রাজনৈতিক সভা-সমাবেশে অংশগ্রহণে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। আদেশে উল্লেখ করা হয়, ‘সিটি করপোরেশনের কিছু কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী চাকরি বিধিমালা লঙ্ঘন করে বিভিন্ন ধরনের রাজনৈতিক সভা, সমাবেশে অংশগ্রহণ করছেন, যা চাকরি শৃঙ্খলা পরিপন্থী অপরাধ। এ অবস্থায় সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে রাজনৈতিক সভা, সমাবেশ, মিছিলে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হলো।
জনস্বার্থে বিসিসি প্রশাসনের এই নড়েচড়ে বসায় বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতৃত্ব বিষয়টির বিরোধীতা করছে। প্রাসঙ্গিক এই বিষয়ে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, অফিস শেষে বিসিসির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কোনো কর্মসূচিতে অংশ নিলে বিসিসি বাধা দিতে পারে না। এটা যে কারও ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, এভাবে রাজনীতিতে বাধা দেওয়া ঠিক না।
বাসদের জেলা সমন্বয়ক ডা. মনীষা চক্রবর্তীও বিষয়টি নিয়ে বিএনপি নেতার মত অনুরূপ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘বরিশাল সিটি করপোরেশন একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। এবং রাজনীতি করার অধিকার সবারই আছে। অফিস সময়ের বাইরে রাজনীতি করার স্বাধীনতা বাধাগ্রস্ত করা ঠিক হবে না।
তবে বরিশাল সিটি কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি নুর খান বলছেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করলে সকলে আইনে মানতে বাধ্য। কিন্তু অনেকে কর্মস্থল ফাঁকি দিয়ে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়াসহ দলীয় নেতাদের সাথে দেখা-সাক্ষাৎ করে সেই ছবি ফেসবুকে প্রকাশ করে প্রভাব বিস্তার করছেন। বিষয়টি নিয়ে নগরবাসীর মধ্যে নেতিবাচক আলোচনা হয় এবং তা বিসিসি প্রশাসনের কানেও এসেছে। এছাড়া কর্মকর্তা-কর্মচারীরা রাজনৈতিক নেতাদের ছবিসংবলিত ব্যানার পোস্টার সাটানোর বিষয়টি খোদ প্রশাসক রায়হান কাওসারের নজরে আসলে তিনি বিব্রতবোধ করেন।
বিসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল বারী রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, চাকরি আইনে অনেক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে বিসিসি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের রাজনীতিতে জড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। কিন্তু আইন লঙ্ঘন করে অনেকে রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তির ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছেন, বিষয়টি নজরে আসার পরে গত ৯ নভেম্বর আদেশ জারি করে এগুলো করতে বারণ করা হয়েছে। পরবর্তীতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে কেউ এমন চাকরিপরিপন্থী কর্মকান্ডে জড়িত থাকলে ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।
প্রশাসনের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, বরিশাল সিটির প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনার রায়হান কাওসার ইতিমধ্যে সরকারি প্রতিটি দপ্তরের প্রধান কর্মকর্তাকে তাদের অধীনস্থ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরিবিধি লঙ্ঘন করে রাজনীতিতে জড়াতে বারণ করেছেন। এরপরেও যদি কেউ এই ধরনের কর্মকান্ডে জড়িয়ে সরকারি প্রতিষ্ঠানকে সমালোচিত করে তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থাগ্রহণ করবেন তিনি। সেক্ষেত্রে দলবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরি হারানোর ঝুঁকিও থাকছে।
বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় সুশীলমহল। এনিয়ে শহরের কাউনিয়া এলাকার বাসিন্দা সমাজকর্মী কাজী এনায়েত হোসেন শিবলুর অভিব্যক্তি হচ্ছে, সরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি গ্রুপ আওয়ামী লীগের শাসনামলে রাজনীতিতে জড়িয়ে খেসারত হিসেবে অনেকে চাকরি হারিয়েছেন, আবার অনেকের মাথায় শাস্তির খড়গ ঝুলছে। কিন্তু এরপরেও তারা দলবাজি ছাড়তে চাইছেন না, যা জনসাধারণের জন্য অস্বস্তিকর। তবে এবার বরিশাল সিটির প্রশাসক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের রাজনীতি থেকে বিরত রাখতে যে উদ্যোগ নিয়েছেন তা আসলেই প্রশংসার দাবি রাখে। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত কতটুকু বাস্তবায়ন হয়, সেটা এখন দেখতে অপেক্ষা করতে হচ্ছে।’